মানসিক চাপ কিভাবে সামলে নিবেন?

মানসিক চাপ কিভাবে সামলে নিবেন?
যুগ যা হয়েছে, ঘরে বাইরে, অফিসে আদালতে এমনকি স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে ব্যাবসায়ী পর্যন্ত আমরা সবাই একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে কারণে অকারণে প্রায়শই মানসিক চাপে থাকি।
এই মানসিক চাপ কারো কারো ক্ষেত্রে এজ ইউজুয়াল, মানে সঠিক কোন কারন থাকে। বাকীদের ক্ষেত্রে হয়তো পরোক্ষভাবে অন্য কোন সিচুয়েশন দায়ী হয়ে থাকে।আবার কারো কারো ক্ষেত্রে একদম  কোন কারণ ছাড়াই। মানসিক চাপ এর কারন বিভিন্নরকম-লোকভেদে, অবস্থান ভেদে এমনকি বয়সের তারতম্য অথবা পুরুষ না মহিলা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে একজন মানুষের মানসিক চাপের বিভিন্ন কারন থাকতে পারে। কারন যাই হোক, এই মানসিক চাপ প্রতিকার টা কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার।
যাই হোক, আজকের সেশনে আমরা শেয়ার করবো বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশে থেকেও মানসিক চাপ কিভাবে সামলে নিবেন।
চলুন দেখা যাক-

১। প্রথমেই সব কিছু পজিটিভলি নেওয়ার চেষ্টা করুন।মনে করুন, আপনার বস আপনাকে প্রমোশন না দিয়ে আপনার জুনিয়র কলিগ কে দিয়েছেন। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে অনেক অসম্মান জনক। পাশাপাশি আপনার রাতের ঘুম খারাপ করার জন্য একাই একশো। কিন্তু আপনি যদি পজিটিভ হোন,ভাবেন যা হয়েছে, হয়েছে! নিশ্চয়ই আমারোও সামনের বার প্রমোশন হবে। তাহলে অটোমেটিক ভাবে আপনার মাথায় কোন চিন্তা অথবা প্রেসার ইত্যাদি কিছু আসতে পারবে না।ইতিমধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় ও এটাই প্রমাণিত হয়েছে, যারা সবকিছু পজিটিভলি নিতে পারেন, তুলনামূলক ভাবে তারা মানসিক চাপ কম ফিল করেন।

২। দ্বিতীয়ত বায়ু চেঞ্জ করুন। আমাদের বন্ধু সমাজে একটা কথা বেশ প্রচলিত।  মানসিক লোড বেশি হয়ে গেছে? যাও কোথাও থেকে ঘুরে আসো। যখনই বুঝবেন মেন্টাল স্ট্রেচ বেশী হয়ে গেছে-সদলবলে চলে যাবেন কোথাও ঘুরতে। দেখবেন মন কেমন ফুরফুরে হয়ে আপনার মেন্টাল প্রেসার হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছে।

৩।এক্সপেকটেশন লেভেল মিনিমাম করুন।অনেকেই আছেন উচ্চাকাঙ্খী।  একটা কথা কি জানেন? যারা খুব অল্পতে খুশী হয়, তাদের কিন্তু মানসিক প্রেসার কম থাকে। আপনি যদি যোগ্য হোন, আপনার যদি রিযিকে থাকে তাহলে আপনি এমনিই সব পাবেন। শুধু শুধু হা হুতাশ করে নিজের মানসিক চাপ বাড়ানোর কি দরকার!

৪। কোন বিষয়ে ঝামেলায় আছেন? কারো প্রতি কোন অন্যায় করেছেন? অনুশোচনা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন? এ ক্ষেতে সমাধান কি জানেন? নিজের কাছের বন্ধুর কাছে সব শেয়ার করা। সবার জীবনেই একজন বিশ্বস্ত কাছের বন্ধু থাকা দরকার যে কিনা যে কোন বিপদেআপদে আপনার সাহায্যে আসতে পারে। পাশাপাশি চেষ্টা করুন আপনার অনুশোচনার কারন খুঁজে বের করে তাকে সমুলে উৎপাটন করতে। যদি ব্যক্তি কারো সাথে অন্যায় করে থাকেন, তার কাছে মাফ চেয়ে নেওয়াটাই সমুচিন।

৫। অফিসে বসের দেওয়া মেন্টাল প্রেসারে আপনি জর্জরিত?  চেষ্টা করুন বসের সাথে আপনার কাজ নিয়ে খোলামেলা আলাপ করতে। যদি বস এতে সাড়া না দিয়ে উলটো প্রেসার আরো বাড়িয়ে দেন, তাহলে জব সুইচ অন করার চেষ্টা শুরু করুন। আপনার জব কে যদি কোন কারনে আপনি ঠিকঠাক উপভোগ করতে না পারেন, তাহলে এই জব চেঞ্জ করাটাই বুদ্ধির কাজ।

৬।ফ্যামিলিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মানুষ প্রচন্ড মানসিক চাপে থাকে। এক্ষেত্রে সমাধান একটাই-ঘরের সবাইরে নিয়ে বৈঠক করেন। যে কারনে আপনি মানসিক অবসাদে ভুগছেন তা সবার সামনে তুলে ধরেন এবং আলোচনা করেন। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই দুনিয়ার বেশীরভাগ মানসিক চাপের কারন দুর করা যায়।

৭। ফাইনালি, অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে কাউন্সেলিং নিন। দু মাসে একবার একটা থ্রো কাউন্সেলিং আপনার মনের জমানো সব চিন্তা, অবসাদ, খারাপ থাকার কারন বের করে আনবে ফলে আপনি হালকা হবেন এবং চাপ মুক্ত হবেন।

মানুষ হিসেবে মানসিক চাপ এড়িয়ে একেবারে গৎবাঁধা জীবন আপনি আমি কেউই আশা করতে পারিনা। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থা পেরিয়ে, নিজের শরীরের অথবা মনের সমস্ত চাপ সামলে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াতেই প্রকৃত সার্থকতা।

আজ এ পর্যন্তই থাক।জানাতে ভুলবেন না কেমন লাগলো আমাদের আজকের ‘মানসিক চাপ কীভাবে সামলে নিবেন’ নিবন্ধনটি।

ধন্যবাদ অফুরান।

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published.